ইসলামের মানবাধিকার সমগ্র-(২য় খণ্ড)

প্রকাশকের কথা

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على خاتم النبيين، وعلى آله وصحبه أجمعين. আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহে দীর্ঘ দিন পরিশ্রমের পর ‘ইসলামের মানবাধিকার সমগ্র’ গ্রন্থ প্রকাশিত হলো। এজন্য আল্লাহ তাআলার শুকরিয়া আদায় করছি। সেই সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি জানাচ্ছি কৃতজ্ঞতা।

মানবাধিকার শব্দটি বর্তমান বিশ্বে ব্যাপক আলোচিত। ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘের মানবাধিকার সনদ Universal Declaration of Human Rights (UDHR)-এর মাধ্যমে অমুসলিম বিশ্বে মানুষের অধিকারের আইনী স্বীকৃতির দ্বার উন্মোচিত হয়। অথচ জাতিসংঘ ঘোষণার প্রায় চৌদ্দশত বছর আগে ইসলাম মানবসমাজের সর্বজনীন মানবাধিকারের সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রদান করেছে। ইসলামের মানবাধিকার মানবজীবনের সব ক্ষেত্রে ও সব বিভাগে পরিব্যাপ্ত। সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে মানবজাতির সম্মান ও মর্যাদার অধিকার; অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ইত্যাদি মৌলিক অধিকার; ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অধিকার; জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তার অধিকার; ব্যক্তিস্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার; এতিম, মিসকিন, অসহায় নারী ও শিশুর অধিকার; প্রতিবেশীর অধিকার; কৃষক-শ্রমিকের অধিকার; প্রতিবন্ধীদের অধিকার; বস্তুত সকল অধিকার সম্পর্কে ইসলাম সুস্পষ্ট নীতিমালা ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে। ইসলামের সব মানবাধিকারকে একত্র করে আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান ইসলামী চিন্তাবিদ ড. খাদীজা আন-নাবরাভী আরবী ভাষায় প্রণয়ন করেছেন ‘মাওসূআতু হুকুকিল ইনসান ফিল ইসলাম’ বা ইসলামের মানবাধিকার সমগ্র। ইসলাম স্বীকৃত মানবাধিকারসমূহকে তিনি ভিন্ন আঙ্গিকে তুলে ধরেছেন। মানুষের জীবনকে তিনি পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় এ-তিনটি পরিসরে বিভক্ত করে প্রত্যেক পরিসরের অধিকারগুলোকে কুরআন ও সুন্নাহ থেকে সংশ্লিষ্ট দলিল-প্রমাণের মাধ্যমে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করেছেন। মুসলিমদের মানবাধিকার বর্ণনার পাশাপাশি তিনি অমুসলিমদের অধিকার ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হিসেবে নারী অধিকারকে আলাদাভাবে উপস্থাপন করেছেন। ইসলাম স্বীকৃত অধিকারসমূহ বর্ণনার ক্ষেত্রে সাবলীল উপস্থাপনা এ-গ্রন্থটিকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে গেছে। গ্রন্থটি থেকে একদিকে সমাজের প্রত্যেক শ্রেণি-পেশার মানুষ তার নিজ নিজ অধিকার ও করণীয় সম্পর্কে যেমন

অবগত হতে পারবেন, অন্যদিকে সর্বজনীন মানবাধিকার প্রসঙ্গে ইসলামী জীবনব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পাঁয়তারায় ইসলাম বিদ্বেষীরা যেসব অযৌক্তিক দাবি উত্থাপন ও অপপ্রচার চালায় তাদের অসারতা প্রমাণ করা সম্ভব হবে।

মুসলিম অধ্যুষিত হওয়া সত্ত্বেও আমাদের দেশে অধিকার প্রদান ও আদায় নিয়ে বিবাদ-সংঘাত নিত্য-নৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে উঠেছে। অথচ আমাদের নবী সাড়ে চৌদ্দশত বছর আগেই এসব বিরোধ-সংঘাতের সমাধান দিয়ে গেছেন। যার মূল চেতনা হলো “অন্যের অধিকার প্রদানকে অগ্রাধিকার দেওয়া”। ইসলামের এই নৈতিক চেতনার শ্রেষ্ঠত্ব ও সুফল এবং ইহলৌকিক ও পারলৌকিক গুরুত্ব ও অপরিহার্যতা তুলে ধরার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ইসলামিক ল’ রিসার্চ এন্ড লিগ্যাল এইড সেন্টার এ-গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ প্রকাশ করেছে।

যে-কোনো ডকুমেন্টারি গ্রন্থের অনুবাদ খুবই জটিল কাজ। এ-গ্রন্থে অনেক অনুবাদ গৃহীত হয়নি। যেগুলো গৃহীত হয়েছে সেগুলোর মধ্যেও ক্রসচেক করতে গিয়ে ব্যাপক সম্পাদনা ও ক্ষেত্রবিশেষে পুনর্লিখন করতে হয়েছে। ক্রসচেকের কাজটি খুবই কষ্টকর। অনুবাদের ভাষা প্রাঞ্জল করতে সম্পাদনা পরিষদকে কঠোর পরিশ্রম ও প্রচুর সময় ব্যয় করতে হয়েছে। বিদগ্ধ আলেম প্রিন্সিপাল মোজাম্মেল হক ও আবদুস সাত্তার আইনী এ-গ্রন্থের ক্রসচেকের ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা রেখেছেন, তাঁদের প্রতি সেন্টারের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আল্লাহ তাআলা তাঁদের উত্তম প্রতিদান নসীব করুন।

ইসলামের মানবাধিকার সম্পর্কে বাংলা ভাষায় এমন মানের গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই। আমাদের বিশ্বাস এটি হবে বাংলা ভাষায় মানবাধিকার গ্রন্থভাণ্ডারে একটি অনন্য সংযোজন।

আশা করি সংস্থার অন্য গ্রন্থগুলোর মতো এ-গ্রন্থটিও পাঠকমহলে আদৃত হবে। আল্লাহ তাআলা সবাইকে হক্কুল ইবাদ সম্পর্কে পূর্ণ সতর্কতা অবলম্বন ও পরিপালনের তাওফিক দান করুন।

বিনীত

শহীদুল ইসলাম
নির্বাহী পরিচালক
বাংলাদেশ ইসলামিক ল’ রিসার্চ এন্ড লিগ্যাল এইড সেন্টার

Scroll to Top